শীতল হয়ে গেছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক, বলছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম

৮৩

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণের পর থকেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে; বিশেষত বাংলাদেশের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভয়াবহ রকমের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে দু-দেশের মধ্যে। হাদির সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের অভিযোগ, ভারতের ইন্ধনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় দুদেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সম্পর্কের অবনতির চিত্রটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের সম্পাদকীয়তে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়তে ডন বলেছে, চলতি সপ্তাহে হিন্দুত্ববাদী মব নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের হামলার চেষ্টা করে। এছাড়া ভারতের অন্যান্য শহরের বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও আক্রমণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় হিন্দু পরিষদের (বিএইচপি) মতো ভারতের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো ময়মনসিংহে এক হিন্দুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে ঢাকার মিশনগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

এতে আরও বলা হয়, ভারতে থাকা মিশনগুলোতে এসব হামলার প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতে নিযুক্ত তার দেশের শীর্ষ কূটনীতিক হত্যার হুমকি পেয়েছেন। যদিও ভারত কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে ছোট করে দেখার চেষ্টা করছে।

ডনের সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু, গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। অনেকেই দিল্লিকে হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সমর্থক হিসেবে দেখেন। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা সেই মনোভাবকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়। এরই মধ্যে সম্প্রতি ওসমান হাদির হত্যাকারী ভারতে পালিয়েছে—এমন তথ্য সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, সম্ভবত উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের এ অবনতির মূল কারণ প্রতিবেশীদের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব। দিল্লির উচিত হাদির হত্যাকারীকে ধরতে ঢাকাকে সাহায্য করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় ইন্ধন দেওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত দিল্লির।

পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমটির মতে, বাস্তবতা হলো দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। কোনো দেশকেই আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকারী হিসেবে কাজ করা উচিত না। একই সঙ্গে অন্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা এবং মাতব্বরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।