তাজরীন ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ

২৩

দেশের পোশাক খাতে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াল ঘটনা তাজরীন ট্র্যাজেডি। ঢাকার আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। তবু স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি শত শত আহত শ্রমিক। 

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড নামে ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১১৪ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরও দুই শতাধিক। এ ঘটনার ১৩ বছর পূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ভেঙে আহত শ্রমিকদের বাসস্থান, শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, নিহত ব্যক্তিদের এক জীবনে আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। সেই সঙ্গে তারা আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্য দায়ী মালিকসহ অন্যদের বিচার নিশ্চিত করা দাবি তুলেছেন। বেঁচে ফেরা অনেকে আর ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। এখনও পুনর্বাসিত না হওয়ায় আক্ষেপ আছে আহতদের। 

সেদিন তাজরীন ফ্যাশনস পোশাক কারখানার নিচতলার গুদাম ঘর থেকে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পরে ৯ তলা পুরো ভবনে। সেদিন জীবন বাঁচাতে যারা লাফিয়ে পড়তে পারেননি তারা মারা যান আগুনে পুড়ে। নিচের ফটক ছিল তালাবদ্ধ। সরকারি হিসাবে এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন। যেসব শ্রমিক ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছিলেন তারা বেঁচে গেছেন। তবে তাদের হাত, পা, বুকের পাঁজর ও কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে যায়। অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, তাজরীন ট্র্যাজেডি নিয়ে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি বেশিরভাগই। তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি শ্রমিক আহত হন। তাদের মধ্যে ১৭২ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অনেকের আর কর্মজীবনে ফেরার সামর্থ্য নেই।