রংপুরে কবরের মাটি তোলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

১২৮

রংপুরের তারাগঞ্জে কবরের মাটি তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে খালেকুজ্জামান (৪২) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি উপজেলার হাঁড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামের মৃত আশরাফ আলী পুত্র।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামের আবদুল জব্বারের সাথে স্থানীয় খালেকুজ্জামান ও তার ভাইদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ফজরের নামাজ শেষে নিহত খালেকুজ্জামানের ভাই আবদুল ছালেক বাড়ির পাশে দাদির কবর জিয়ারত করতে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, কবরের মাটি তুলে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তার সঙ্গে আবদুল জব্বারের পুত্র বাবু মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবু মিয়া, তার ভাই লেবু মিয়া, দুলাল মিয়া ও চান মিয়া মিলে আবদুল ছালেককে মারধর করেন। খবর পেয়ে ছুটে যান আবদুল ছালেকের ভাই খালেকুজ্জামান ও মাহবুবুর রহমান। এরপর তারাও হামলার শিকার হন। এ সময় খালেকুজ্জামানের মাথায় খুন্তি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলে খালেকুজ্জামান মারা যান।

খালেকুজ্জামানের মা ছালেমা বেগম জানান, খালেকুজ্জামানের সহায়-সম্বল বলতে ৩০ শতক জমি ছাড়া কিছুই ছিল না। দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

নিহতের ভাতিজা জান্নাতুল ইসলাম জানান, আমার নির্দোষ চাচাকে মেরে ফেলেছে। আমার বাবাও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। আমরা চাচার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের ভাই মাহবুবুর রহমান বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।