বহিরাগতদের দখলে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

20.07.2025
২৪

জে. হাসান, ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৫: রাজধানীর বিমানবন্দর এবং দক্ষিণখান এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটটি বর্তমানে বহিরাগতদের দখলে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু বছর পরেও মার্কেটটি দখল করে রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন চলছে অবৈধ চাঁদাবাজি ও দোকান বিক্রির বাণিজ্য।

২০০২ সালে বিমানবন্দর সংলগ্ন জমিতে সিভিল এভিয়েশনের মালিকানাধীন এই মার্কেটটি ১০ বছরের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নামে লিজ প্রদান করা হয়। পরে ২০১২ সালে আরও ১ বছরের জন্য লিজ নবায়ন করা হয়। তবে ২০১৩ সালের পর থেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সরে দাঁড়ালে শুরু হয় মার্কেট দখলের খেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নয়ন, আবুল, এডভোকেট জামাল, ও কথিত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আজাদ সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কেটটি পেশিশক্তির মাধ্যমে দখলে নিয়ে নেন। পরে তারা নিজেদের মতো করে দোকানের পজিশন তৈরি করে জামানতের বিনিময়ে সেগুলো বিক্রি করতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিচতলার অর্ধেক জায়গায় গড়ে উঠেছে অবৈধ কাঁচাবাজার, মাছ, মুরগি ও মসলা বিক্রির দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় করা হয় লক্ষাধিক টাকার চাঁদা। কাঁচাবাজারের পাশে নির্মিত হয়েছে জাতীয় পার্টির একটি অফিসও। দোকান মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের জামানত এবং মাসিক ভাড়া।

এক মসলা ব্যবসায়ী বলেন, “আমি ৭ লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে পজিশন কিনেছি, মাসে ১৭ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছি।” স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চারতলা বিশিষ্ট মার্কেটটিতে প্রায় ৩৫০টির বেশি দোকান রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, সিভিল এভিয়েশন মালিকানা দাবি করলেও কীভাবে নিয়মিত এই মার্কেট থেকে টাকা উঠানো হচ্ছে—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, বা কারা এর পেছনে জড়িত—তা খতিয়ে দেখছে না কোনো কর্তৃপক্ষ।

গত ১০ জুলাই রুহুল আমিন নামের একজন নাগরিক দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মার্কেটের দখল, অবৈধ চাঁদা আদায় এবং কোটি কোটি টাকার পজিশন বানিজ্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানাকে অবহিত করা হলেও কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, প্রশাসনের এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।