কথা কাটাকাটির জেরে ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করেন নজরুল: পুলিশ

2507161055
৪৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় সংঘটিত মা ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নজরুল পূর্বের একটি হত্যা মামলার আসামি। ট্রেন থেকে একজনকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছিলেন তিনি। সেই মামলায় তিনি দেড় বছর জেলে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে ভালুকায় নিজের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের ভাড়া বাসায় থাকতেন।

তিনি জানান, নজরুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার ভাবি ময়না ও ভাতিজি রাইসা আক্তার প্রায় সময় খাবার নিয়ে খোটা দিত। ভাবি ময়না আক্তার বিভিন্ন সময় আবার জেলে পাঠিয়ে দেবে বলে হুমকি দিত এবং মারধর করত। গত রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নজরুলের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এরই জেরে ওইদিন রাতে প্রথমে ভাবি ময়নাকে পরে ভাতিজি রাইসাকে এবং সবশেষ ভাতিজা নীরবকে গলাকেটে হত্যা করেন নজরুল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তিনজনকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে পড়লে বিছানার চাদর দিয়ে তা মুছে ফেলেন নজরুল। খাটের নিচে রক্তমাখা চাদর রেখে পাশের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন নজরুল। ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বারান্দার গেটে তালা লাগিয়ে তিনি চলে যান ভালুকা গ্যাস লাইন এলাকার কামরুল মেলিটারির রিকশার গ্যারেজে। সেখানে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বিক্রি করে ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা নিয়ে গাজীপুরের দিকে যান নজরুল।

মাওনা এলাকায় একটি গ্যারেজ অটোরিকশাটি বিক্রির চেষ্টা করলে গ্যারেজ মালিক রিকশাটি কিনতে রাজি হননি। পরে নজরুল অটোরিকশাটি রেখে গ্যারেজ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে গাজীপুর এলাকায় রাত্রিযাপন করেন। তিনি একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে জানান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নজরুল তার এক আত্মীয়কে ফোন করেন। ফোন কলের সূত্র ধরেই গতকাল বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নজরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নজরুল ইসলামকে প্রধান এবং নাম না জানা আরো এক-দুইজনকে আসামি করে গত সোমবার রাতে ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন নিহত ময়না আক্তারের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম।