ফিক্সিং: কারণ, প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান

Priyo alo
১৪০

প্রিয় আলো বিশেষ: দেশিয় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিক্সিং হওয়া একটি খুবই দুঃখজনক বিষয়। সম্প্রতি দেশের ঘরোয়া লিগে ফিক্সিংয়ের সম্ভাব্য কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। তবে এটি কেন হচ্ছে, তার কিছু কারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন রেডিও ধ্বনির স্পোর্টস কমেন্টেটর মোস্তফা কামাল তোহা।

কেন ফিক্সিং হচ্ছে?

ক্রিকেটে অনেক খেলোয়াড়ের নিয়মিত আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি নাও হতে পারে এবং ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ টাকা উপার্জন করার প্রবণতা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা দুর্দশাগ্রস্ত হতে পারে, যা তাদেরকে ফিক্সিংয়ে জড়িত হতে প্ররোচিত করতে পারে।

অনেক সময় খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের উপর বাহ্যিক চাপ থাকতে পারে বা তাদেরকে ফিক্সিংয়ের জন্য বিপথে চালিত করা হয়। এর পেছনে অনেক সময় অর্থনৈতিক চাপ, খেলার প্রতি অনুরাগের অভাব বা এমনকি ভয়ভীতি থাকতে পারে।

কিছু ঘরোয়া লিগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তুলনায় শৃঙ্খলা বা নজরদারি কম থাকে। এর ফলে ফিক্সিংয়ের জন্য সুযোগ তৈরি হয় এবং অনেক সময় তা ধরা পড়ে না।

কিছু ক্ষেত্রে, ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হওয়া বা অপর্যাপ্ত মনিটরিং ফিক্সিংয়ের ঘটনা বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে খেলোয়াড়দের উপর যথাযথ নজরদারি করা কঠিন হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব

ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিক্সিং হলে এর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে কিছু সম্ভাব্য প্রভাব হল:

ফিক্সিংয়ের কারণে খেলোয়াড়দের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে, যা পরবর্তীতে দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে। যদি দর্শকরা মনে করেন খেলাটি জালিয়াতি করা হয়, তবে তারা আর আগ্রহী হবে না।

যদি ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেন, তবে সেই ম্যাচের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও কঠোরভাবে তদন্ত করবে, যা খেলাধুলায় আরো দেরি বা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সমাধান

ফিক্সিংয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ প্রয়োজন:

লিগগুলোতে কঠোর নিয়মাবলী এবং মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নজর এড়াতে না পারে। খেলোয়াড়দের নিয়মিতভাবে এন্টি-করাপশন ট্রেনিং দেয়া উচিত।

ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। খেলোয়াড়দের জীবনব্যাপী নিষেধাজ্ঞা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অন্যদের জন্য সতর্কতামূলক বার্তা যাবে।

খেলোয়াড়দের যথাযথ আর্থিক সহায়তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ দেয়া উচিত, যাতে তারা ফিক্সিংয়ের মতো অবৈধ পথে না চলে যায়।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা উচিত, যাতে ফিক্সিংয়ের জন্য দায়ী রিজাল্ট ফিক্সিং চক্রগুলি ধরা পড়তে পারে।

এভাবে, খেলাধুলার সততা রক্ষা করতে একসাথে কাজ করা জরুরি।

মোস্তফা কামাল তোহা

ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার, রেডিও ধ্বনি ৯১.২ এফএম 

md.mostafakamaltoha@gmail.com