পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

Sylhet 3 1024x576
৩৭

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার তিনটি নদীর ৬টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আরও কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানিতে বাসা-বাড়ি ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় নগরবাসীর ঈদ-আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। পশু কোরবানিও দিতে পারেননি অনেকে।

মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, টানা ভারী বৃষ্টিতে নদী ও ছড়া উপচে পানি নগরীতে প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সিলেট নগরীর ভেতরে অনেক বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টা সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ও একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ও সারি গোয়াইন নদীর পানি গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পাওয়া বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে বলে জানা গেছে । সেখানকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুল ইসলাম ক্ষুদে বার্তায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য বলেছেন। পাশাপাশি উদ্ধার কাজ, আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা খাবার, ত্রাণ বিতরণ বিষয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায়) সিলেটে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে, ভারতের আইএমডি’র তথ্যমতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।