পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি-বজ্রপাতে ৩৯ জনের মৃত্যু

Pakistan Flood 20240416141122
২১

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতে কমপক্ষে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফসল কাটার সময় বেশ কয়েকজন কৃষক বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু ফুটেজে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে কৃষিজমি ডুবে গেছে।

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়ছে। শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রকোট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ অঞ্চলে নজিরবিহীন বন্যায় ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আহত হয় আরও কয়েক হাজার মানুষ। এতে কয়েক লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন এবং কয়েক মাস ধরে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দেয়।

সে বছর খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের কিছু অঞ্চল বন্যায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি বছরের বন্যা এবং বজ্রপাতেও সেসব এলাকা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে সেখানে বজ্রপাতে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছে।

এছাড়া পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সোম এবং মঙ্গলবার প্রদেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বালুচ শহরের মিউনিসিপ্যাল কমিটির চেয়ারম্যান নুর আহমেদ পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডনকে বলেছেন, পাসনিকে এই মুহূর্তে একটি বড় হ্রদের মতো দেখাচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও ভারী বন্যার খবর পাওয়া গেছে। আফগান কর্তৃপক্ষ রোববার জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুসারে, পাকিস্তানে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চম দেশ হিসাবেও স্থান পেয়েছে।