আলোকিত বাংলাদেশের প্রত্যাশা মঙ্গল শোভাযাত্রায়

Mongol Shuvojatra
২৭

সব গ্লানি দূর করে নতুনকে আপন করে প্রত্যাশার ঢালিতে সুন্দরগুলো জমা পরুক আর বাংলাদেশ হোক আলোকিত। এই লক্ষ্যে ‘আমরা তো তিমির বিনাশী’ প্রতিপাদ্যে এবারের বর্ষবরণ উৎসবের মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষ হলো।

বাংলা নববর্ষ বরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে রোববার (১৪ এপ্রিল) ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু করে ঢাকা ক্লাব ও শিশু পার্কের সামনে ঘুরে ৯টা ৫০ মিনিটে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে যোগ দিতে সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় জড়ো হন হাজারও মানুষ। সকল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি বিভেদ দূরে ঠেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা যেন হয়ে উঠে অসাম্প্রদায়িক এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এবারের শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা বিষয় স্থান পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রদর্শনীর জন্য বিভিন্ন মুখোশ, পেঁচা, ঘোড়া, মূর্তি, ট্যাপা পুতুল, নকশি পাখি, বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চালু হওয়া এ মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। সেবারই এ উৎসব সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। এরপর থেকে বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এটি। ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এ আনন্দ শোভাযাত্রা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম ধারণ করে।