প্রতারক কারাগারে, তবুও শংকিত ক্ষতিগ্রস্তরা

Setertertertert
২২

কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে মূল প্রতারক। এরপরেও টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনেকেই সঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রতারক চক্রের মূল হোতা এ এইচ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে সুমন ওরফে মুজিবুর রহমান সুমন পাবনা জেলার নারায়নপুর রাধানগর এলাকার এসকান্দার বিশ্বাস রোড বাই লেনের আবুল কাশেমের পুত্র। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ এইচ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে সুমনের ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি অফিস রয়েছে। যেখানে বসে ফ্লাশ লাইট এন্টারপ্রাইজ জোহানি এন্টারপ্রাইজ নামীয় অফিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং উত্তরবঙ্গ হেলথ কেয়ার, দারুস সুন্নত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস লিমিটেডের ব্যবসায়িক পার্টনার পরিচয় দিয়ে হাজার হাজার মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে অফিস নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ এই চক্রটি মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দেশের মেগা প্রজেক্ট এর ওয়ার্ক অর্ডার নকল করে বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৫/২০ টা মামলা রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চাকরি দেওয়ার নামেও আড়াইশো মানুষের কাছ থেকে শত কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক চক্রটি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানাগেছে, অল্প টাকায় বিদেশে লোক পাঠানো, এয়ারপোর্ট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পায়রা বন্দর, রূপপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিভিন্ন হাসপাতালে জনবল নিয়োগ এবং পাথর ও বালি সাপ্লাই দিয়ে ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর এলাকার শেখ আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে শেখ নুরুজ্জামান মাসুমের নিকট থেকে ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে টাকা আদায়ের ব্যর্থ হয়ে ২৬ জুন ২৩ তারিখ প্রতারকদের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করিয়াছে। প্রধান আসামি আল মাহমুদ ওরফে সুমন আসামি এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে আটক রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, মামলা মোকদ্দমা এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে তার স্ত্রী মোসাম্মৎ আজমিরা খানম সহ ১০ – ১২ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র।