ই-কমার্সের নামে প্রতারনা করে কোটি টাকা লুট

387638104 288839200765064 4974286047665936796 N
২২

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইনভিত্তিক এমএলএম ব্যবসা করে বছর না ঘুরতেই গ্রাহকের ১ কোটি ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এবার আলোচনায় “কি কিনবেন” নামের কোম্পানীটি। প্রায় পাঁচ বছর আগে সাঈদুর রহমান সাঈদ নামে পুরান ঢাকার এক প্রতারক বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অনলাইন ভিত্তিক প্রতারণার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তার লক্ষ্যই ছিল সেরা ধনী হওয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স ব্যবসার লাইসেন্স ছাড়াই সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অনলাইনে অ্যাপসের মাধ্যমে প্রতারণা শুরু করেন এই সাঈদুর রহমান। ২০২১ ও ২০২২ সালে ই-কমার্সের প্রতরনা ঠেকাতে যখন সিআইডিসহ দেশের বিভিন্ন আইনশৃখলা বাহিনী তৎপড়তা বাড়ায় তখন এই সাঈদুর রহমানের “কি কিনবেন” প্রতিষ্ঠানটি থেকে যায় সবার আড়ালে। তখন ই কমার্সের ব্যবসা বন্ধ করে প্রতারক সাঈদুর রহমান ভিন্ন কৌশলে প্রতারনার পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার “কি কিনবেন”এর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিয়ে নকল প্রসাধণীসহ বিভিন্ন আইটেম বিক্রি করা শুরু করেন সাঈদুর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাঈদুর ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজে ৯০/৯১ নাজিমউদ্দিন রোডের এসএইচ প্লাজার যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সেখানে “কি কিনবেন” ওর কোনো অফিস নেই। আশপোশে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতারনা করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর পন্য না দেয়ার কারণে প্রায়ই ঝামেলা হত। তিন বছর আগেই এখান থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমানে পুরান ঢাকার নারিন্দাতে অফিস করেছেন প্রতারক সাঈদুর।

যখন দেশে ই-কমার্স চালু হয়েছিল, সরকারের নীতিনির্ধারকেরা এর পক্ষে জোর প্রচার চালিয়েছিলেন। সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে মাঠে নেমেছিলেন বিভিন্ন মাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। রাতারাতি অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়েই। বেশ কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে গ্রাহকদের টাকা মেরে দেওয়ার রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ধামাকা শপিং, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিড ডট কম এবং কিউকম। এর মধ্যে ই-অরেঞ্জ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছদ্মনামে পরিচালনা করছিলেন গুলশান থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি কোটি কোটি টাকা নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন এবং ভারতে ধরা পড়েছেন।

তবে বিদেশী পন্য দেয়ার নামে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা সেই সাঈদুর রহমান সাঈদ আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাঈদুর রমহান সাঈদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ সরকারের কর ফাকি দেয়া। জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা প্রতারনার মাধ্যমে আয় করলেও সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়েছে প্রতারক সাঈদুর রহমান।

এসব বিষয়ে কথা বলতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অনেক প্রতারক ই কমার্স প্রতিষ্ঠান রাজধানীর বিভ্নি গলিতে অফিস নিয়ে ফেসবুক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতরনা করে। বিষয়েটি গণমাধ্যমে আসার পর সংস্থাটি তদন্তে নামে বলে জানান সিআইডির গনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ।

এসব প্রতারনার অভিযোগের সত্যতা জানতে সাঈদুর রহমান সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।