রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলিতে ২ জন নিহত

৩০

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা এবং আরসা বিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্যাম্প কেন্দ্রীক এক আরসা কমান্ডারসহ দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
সোমবার ভোরে উখিয়ার ৫ নম্বর ও ২ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, টেকনাফের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ তিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার ভোর রাতে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২ ইস্ট ও ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা এবং আরসা বিরোধী গ্রুপের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই আরসা সন্ত্রাসী নিহত হয়। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএনের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুই জন হলো– ক্যাম্প ৭-এর ডি ৫ ব্লকের মীর আহমদের ছেলে সাকিবুল হাসান ওরফে সানা উল্লাহ এবং একই ক্যাম্পের এ ব্লকের আব্দুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন।

ওসি জানান, ক্যাম্পে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত সানাউল্লাহ কুতুপালং ক্যাম্পের আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে ক্যাম্প-২/ইস্টে আবুল কালাম মাঝি হত্যা, তাহের মাঝি হত্যা, আমিন মাঝি হত্যাচেষ্টাসহ বহু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত। এ ছাড়াও সে এক বছর আগে এবিপিএন সদস্য সাঈদুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জড়িত ছিল।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

IMG-20231009-WA0006-4d6359bab1b115b0672e324b6f422038

অপরদিকে, ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নুর জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে ১৬ এপিবিএন পুলিশের একটি টিম টেকনাফের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ৫ ব্লকে অভিযান চালিয় তিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশে তৈরি তিনটি ওয়ান শুটারগান (এলজি) ও ১৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। আটক রোহিঙ্গারা হলো ওই ক্যাম্পের মনির আহমেদের ছেলে কামাল হোসেন, আব্দুর শুক্কুরের ছেলে অজিউর রহমান ও তাজিমুল্লাহর ছেলে মুজিবুর রহমান।

অতিরিক্ত ডিআইজি আরও জানান, আটক তিন জনই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ আরএসওর সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।