বাধ্য হয়ে লোডশেডিং সবার সহযোগিতা চাই

৪০

সরকার বিদ্যুতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে জানিয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের লোডশেডিং দিতে হবে এবং বিদ্যুতের উৎপাদন সীমিত করতে হবে। কারণ বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। গতকাল

বুধবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ‘চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ নামে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শেখ জামাল ডরমিটরি এবং রোজী জামাল ডরমিটরিও উদ্বোধন করেন। আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্বাগত বক্তৃতা করেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কত সময় লোডশেডিং দেওয়া হবে এর রুটিন তৈরি করুন। জনগণ যেন সে জন্য প্রস্তুত হতে পারে এবং তাদের দুর্ভোগ কমানো যায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল, এলএনজি, ডিজেলসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে এবং আমেরিকা ও ইউরোপের রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটছে তা উপলব্ধি করে দেশবাসী বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সরকারকে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকার বিদ্যুৎ খাতে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখার জন্য এলএনজি আমদানিতে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বাজেটে ৮৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভর্তুকি না কমালে সরকার টাকা কোথা থেকে পাবে?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যে ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল ৭০৮ টাকা সেটি যুদ্ধের পর হয়ে গেছে ১ হাজার ৮০ টাকা। এলএনজি ১০ মার্কিন ডলারে কেনা হতো, সেটা এখন ৩৮ ডলার। ১৮৭ ডলারের কয়লা এখন ২৭৮ ডলার। ডিজেলের লিটার ৮০ ডলার ছিল, এখন ১৩০ ডলার। ভোজ্যতেলেরও দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রতি কিউবিক মিটার এলএনজি কেনায় সরকারের ব্যয় ৫৯ দশমিক ৬০ টাকা। কিন্তু গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছিলাম মাত্র ৯ দশমিক ৬৯ টাকায়। যেটা সম্প্রতি ১১ টাকা করা হয়েছে। এরপরও বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি রয়ে গেছে। ফার্নেস ওয়েলের প্রতি একক ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় ১৭ দশমিক ৪১ টাকা, সেটা ৫ দশমিক ০৮ টাকায় দিচ্ছি। ডিজেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ৩৬ দশমিক ৮৫ টাকা, আমরা ৫ দশমিক ০৮ টাকা দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করছি। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ১২ দশমিক ৩৭ টাকা, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৫ দশমিক ০৮ টাকায়। কৃষিসহ সব খাতে কত দিন এভাবে ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।

শেখ হাসিনা জানান, ১৯৯৮ সালে তিনি ছোট বোন শেখ রেহানা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মালয়েশিয়া সফরকালে সাইবারজায়া টেকনোলজি পার্ক পরিদর্শন করেন। এরপর জয় একই আদলে দেশে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। সরকার উদ্যোগ নিলেও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। সেই সময়কার আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০ হাজার স্কুলে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় অর্ধেক দামে নেদারল্যান্ডস থেকে কম্পিউটার আমদানির চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু রেহানার মেয়ে টিউলিপের নামের সঙ্গে ওই কম্পিউটার কোম্পানির নামের মিল থাকায় এটা তার কোম্পানি বিবেচনায় বিএনপি সরকার চুক্তি বাতিল করে দেয়। এ জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানাও গুনতে হয় বাংলাদেশকে। সরকার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছে তার ফল নতুন প্রজন্ম পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদনে সহায়ক ১৫৬টিরও বেশি যন্ত্রাংশের ওপর ১ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক হ্রাস করে দিচ্ছি। ফলে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের ১৫টি কোম্পানির ফোন সেট আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামীতে গার্মেন্টস পণ্যের সঙ্গে ডিজিটাল ডিভাইসও সমানতালে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি হবে। রপ্তানি খাতে আগামীতে এটিই হবে একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আলোকসজ্জা না করার আহ্বান

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, দোকান, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল গণভবনে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠক শুরুর আগে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।