তরুণ মজুমদারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক

২১

গুরুতর অসুস্থ ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক তরুণ মজুমদার। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎধীন রয়েছেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

নিউজ১৮ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তরুণ মজুমদারের শারীরিক অবস্থার খবর নিতে আজ সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। সবকিছু মিলিয়ে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

গতকাল রাতে চিকিৎসকরা জানান, অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও তা নিয়ন্ত্রণে। সাড়া দিচ্ছেন বর্ষীয়ান এই পরিচালক। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

চেস্ট মেডিসিনের চিকিৎসক সোমনাথ কুণ্ডু এবং মেডিসিনের চিকিৎসক সৌমিত্র ঘোষের নেতৃত্বে পাঁচজন সদস্যের একটি দল সারাক্ষণ তরুণ মজুমদারকে নজরে রেখেছেন। এ টিমের এক চিকিৎসক বলেন, ‘৯২ বছর বয়স, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে। লিভারের সমস্যা রয়েছে। হাইপো থাইরোয়েডিজম রয়েছে। টিএসএইচ পরীক্ষা করানোর পর রিপোর্ট ভালো আসেনি। স্বাভাবিকের তুলনায় যার মাত্রা ১০০ এর বেশি। এটা বিপজ্জনক মাত্রা। যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রবণতা বাড়ায় বা মাল্টি অর্গানের ক্ষতি করতে পারে।’

এই টিমের অন্য এক ডাক্তার জানান, আইসিইউতে রাখার পর রাইলস টিউব লাগানো হয়, এর মাধ্যমে খাওয়ানো হচ্ছে। গতকাল সামান্য খেয়েছেন। শ্বাসকষ্ট থাকায় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে প্রতি ঘন্টায় ৪-৬ লিটার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এস্পিরেশন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তিনি। খাদ্যনালী থেকে খাবারের পানির অংশ কোনোভাবে শ্বাসনালীতে পৌঁছে তা ফুসফুসে ঢুকে পড়ে, সংক্রমণ ছড়ায় তখন তাকে এস্পিরেশন নিউমোনিয়া বলে। তরুণ মজুমদারের ফুসফুসে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বুধবার আরো কিছু পরীক্ষা করানো হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে তরুণ মজুমদার কিডনি রোগে ভুগছেন। এই পরিচালকের ফুসফুসের সমস্যা ছাড়াও ডায়াবেটিসও রয়েছে তার।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে জন্মগ্রহণ করেন তরুণ মজুমদার। তার বাবা বীরেন্দ্রনাথ মজুমদার ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। রসায়নের ছাত্র হলেও সিনেমা তৈরির ঝোঁক ছিল তরুণ মজুমদারের। শচীন মুখোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে ‘যাত্রিক’ নামে টিম তৈরি করে সিনেমা পরিচালনার কাজ শুরু করেন তিনি। এই তিন পরিচালকের প্রথম সিনেমা ‘চাওয়া পাওয়া’। এতে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার, সূচিত্রা সেন। এরপর ‘যাত্রিক’ নির্মাণ করে ‘কাঁচের স্বর্গ’। যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

১৯৬৫ সালে ‘যাত্রিক’ থেকে বেরিয়ে আসেন তরুণ মজুমদার। একই বছর ‘আলোর পিপাসা’ এবং ‘একটুকু ভালোবাসা’ নামে দু’টি সিনেমা তৈরি করেন। তারপর থেকে একের পর এক সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই পরিচালক। এ তালিকায় রয়েছে—‘বালিকা বধূ’, ‘কুহেলি’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘দাদার কীর্তি’, ‘আপন আমার আপন’, ‘গণদেবতা’, ‘চাঁদের বাড়ি’ প্রভৃতি।

ভারতীয় বাংলা সিনেমার এই নির্মাতা বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।