নোবেল পদক বিক্রি করে দিচ্ছেন রুশ সাংবাদিক

২২

ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে নিজের নোবেল পদক নিলামে তুলেছেন রুশ সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাটভ। শান্তিতে নোবেলজয়ী মুরাটভের মতে, ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান অধিকাংশ রুশ নাগরিকরা সমর্থন করে না। তিনি আশা করছেন, তার পদকটি ২০ লাখ ডলার বা তার বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।

ক্রেমলিনের সমালোচক বলে পরিচিত সংবাদপত্র নোভায়া গাজেটা’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং মুখ্য সম্পাদক ছিলেন মুরাটভ। ১৯৯৩ সালে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচভের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থ দিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

বছরের পর বছর ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাংবাদিকতা করেছে নোভায়া। কিন্তু গত মার্চ মাসে এটি তার অনলাইন এবং প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। রাশিয়ায় ভুয়া খবর প্রচারের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি বিল সই করায় বিষয়টি আইনের মর্যাদা পেয়েছে। এরপর রাশিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যমের তালিকায় যোগ হয় নোভায়া গাজেটা’র নাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মুরাটভ বলেন, আমার দেশ অন্য একটি দেশে আগ্রাসন চালাচ্ছে। সেখানে এখন এক কোটি ৫৫ লাখ শরণার্থী রয়েছে। আমরা কী করতে পারি তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেছি। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রত্যেকেরই প্রিয় কিছু দেওয়া উচিত।

মুরাটভ আরো বলেন, বর্তমানে ইউক্রেনীয়দের ভবিষ্যত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের অবশ্যই তাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যে কথাটি আমরা বলতে চাই এবং দেখাতে চাই তা হলো মানব সংহতি।

ফিলিপাইন্সের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাটভকে ‘স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়ে গণতন্ত্র ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করায়’ ২০২১ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নিয়েছিল নোবেল কমিটি। পুরস্কার কমিটির সহায়তায় বিশ্ব শরণার্থী দিবসে (২০ জুন) হেরিটেজ অকশনে মুরাটভের পদক বিক্রি করা হচ্ছে।

রাশিয়ায় মুক্ত গণমাধ্যমের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বাগস্বাধীনতা নেই। মতপ্রকাশের প্রকৃত স্বাধীনতা নেই। ফলে মানুষের কাছে কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো বিবৃতির জন্য, প্রশাসনিক বা ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।