৬০ বলে দরকার ১২৬ রান, সেখান থেকে ৫ বল হাতে রেখেই ভারত বধ দ. আফ্রিকার

৩৩

স্পোর্টস ডেস্ক: কুইন্টন ডি ককের আউট তাহলে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ধীর গতিতে ব্যাটিং করা এ ব্যাটসম্যান (২২ বলে ১৮) আউট হওয়ার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে গতি পায়।

ভারতের দেওয়া ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮.৪ ওভারে অতিথিদের রান তখন ৩ উইকেটে ৮১। শেষ ১০ ওভারে লক্ষ্য নেমে আসে ১২৬ রানে। ওই সময়ে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার ও রাইসি ভন ডার ডুসেন। দুজনের ব্যাটিং তাণ্ডবে স্রেফ এলোমেলো ভারত।

বিশাল লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা ছুঁয়ে ফেলে ৫ বল আগে হাতে ৭ উইকেট রেখে। মাত্র ৬৩ বলে ১৩১ রানের জুটি গড়ে ডুসেন ও মিলার ভারতকে হতাশায় ডোবান। ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাসও গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০৮ রান করে জিতেছিল তারা।

তাদের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখে মনে হচ্ছিল ছক কাটা পরিকল্পনায় ব্যাটিং করছেন। ১১-১৫ এই ৫ ওভারে ৬২ রান তুলে নেন। তাতে শেষ ৫ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৪ রান। অনায়াসে সেই রানটাও করে ফেলেন তারা। চার-ছক্কার বন্যা ভাসান দিল্লির ২২ গজে। তবে আগ্রাসন শুরু করেন মিলার। আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই খেলোয়াড় ২২ বলে তুলে নেন ফিফটি। তার ব্যাটিং দেখে লোভ সামলাতে পারেননি ডুসেন। থিতু হয়ে আগ্রাসন চালানো এ ব্যাটসম্যান ফিফটি পেতে খেলেন ৩৭ বল।

এরপর তাদের কেউ থামাতে পারেনি। ১৭তম ও ১৮তম এই দুই ওভারে পরপর ২২ রান করে তোলেন তারা। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মিলার ৩১ বলে ৬৪ রান করেন ৪ চার ও ৫ ছক্কায়। ডুসেন ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন ৭ চার ও ৫ ছক্কায়। তেম্বা বাভুমা ১০, প্রিটোরিয়াস ২৯ রান করেন।

এর আগে, দিল্লিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল উড়ন্ত। পাওয়ার প্লে’তে দুই ওপেনার ইশান কিশান ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ৫১ রান করেন। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাদের জুটি ভাঙেন পার্নেল। বাভুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে ঋতুরাজ গায়কোয়াড় সাজঘরে ফেরেন ২৩ রানে।

ভারতের ইনিংস মেরামত করেন ইশান ও শ্রেয়াস আইয়ার। ৮০ রানের জুটি গড়েন তারা। এ সময়ে বাঁহাতি ওপেনার ইশান ফিফটি তুলে নেন। ৩৭ বলে তৃতীয় ফিফটি পান তিনি। এরপর ২২ গজে তাণ্ডব চালান। দ্রুত রান তুলে প্রোটিয়াদের বোলিং আক্রমণ এলোমেলো করে দেন। ৪৮ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৬ রান করেন। আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। এছাড়া অধিনায়ক রিশাভ পান্ত ১৬ বলে ২৯ রান করেন। তবে শেষ দিকে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এ ব্যাটসম্যান ১২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩১ রান করেন। তাতে তাদের দলীয় রান চূড়ায় উঠে যায়।

কিন্তু সেই রানটাও কম হয়ে যায় মিলার ও ডুসেনের জন্য। দুজনের ব্যাটের ঝড়ে শেষ হাসিটা হেসেছে প্রোটিয়ারা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ১২ জুন দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।