তেঁতুলতলা মাঠে এখনও চলছে নির্মাণকাজ

২১

রাজধানীর তেঁতুলতলা খেলার মাঠ রক্ষার আন্দোলনের মধ্যেই সেখানে চলছে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের কাজ। পুলিশ সদস্যরা মাঠে অবস্থান করছেন। তাদের উপস্থিতিতে নির্মাণকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কলাবাগান থানার পুলিশ সদস্যরা মাঠে চেয়ারে বসে আছেন। নির্মাণ শ্রমিকরা সীমানা প্রাচীরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সদস্যরা জানান, ‘উপরের’ নির্দেশে তারা এখানে অবস্থান করছেন এবং কাজের তদারকি করছেন।

মাঠের উত্তরপাশে রাস্তা ঘিরে সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে গত কয়েকদিন ধরে। রাস্তার পাশে রাখা আছে রড-বালি-ইট-সুড়কি-কাঠ। দেয়াল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রডের ভিম করা হয়েছে।

নির্মাণ শ্রমিক বুলবুল বলেন, ‘আমাদের কাজ করতে বলেছে পুলিশরা। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। দুই-তিনদিনের মধ্যে কাজ শেষ করে বাড়ি (রংপুর) যাব ঈদ করতে’।

মাঠের পাশের এক দোকানী বলেন, ‘বাপ দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এই তেঁতুলতলা মাঠ। এখানে ছেলে-মেয়েরা খেলে। ঈদের জামাত, জানাজা হয়। এখানে কেনো থানা স্থাপন করতে হবে? অত্র এলাকায় কি জায়গার অভাব পড়েছে?’

এ বিষয়ে একজন পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কী কারণে তাদের এখানে অবস্থান- এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে অবস্থান করছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আশাবাদী, এই মাঠটি রক্ষা পাবে। মাঠ রক্ষা পেলে আন্দোলন সফল হবে। মাঠটি খোলামেলা থাকুক, এখানে যেন কোনও স্থাপনা নির্মাণ না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমার কিছু চাওয়ার নেই। মাঠটা রক্ষা পেলে এলাকার ছোট বাচ্চারা এখানে খেলাধুলা করতে পারবে এটাই আমি চাই।’

এর আগে, গত রোববার (২৪ এপ্রিল) খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতা এবং মাঠে থানা নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ‘তেঁতুলতলা মাঠ সুরক্ষা’ আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না এবং তার ছেলে পিয়াংসুকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৩ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুচলেকা দিয়ে সৈয়দা রত্না ও তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।