অস্ত্র কেনা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় পরিসরে সম্পর্ক চায় ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র কেনা নয়, নতুন নতুন ক্ষেত্রে বড় পরিসরে সম্পর্ক গড়তে চায় ঢাকা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শনিবার (২ এপ্রিল) রাতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সফর করছেন। আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

সেদিনই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার দাবি জানাবেন। র‌্যাবকে অত্যন্ত দক্ষ, কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক জবাব থাকা উচিত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি শান্তিপ্রিয় দেশ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে বাংলাদেশের আগ্রহ কম। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে যুক্ত হতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড গত মাসে বাংলাদেশ সফরের সময় ‘জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্টের (জিসোমিয়া)’ খসড়া হস্তান্তর করেন। গত ২০ মার্চ ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি বলেছিলেন, ‘চুক্তিটি নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার কাঠামো চুক্তি। আমরা নিশ্চিত যে এ বিষয়টি সুরাহা করতে পারব। এর ফলে আমরা নিরাপত্তা খাতে একযোগে আরো কাজ করতে পারব। ’ ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ বছর দুই দেশের মধ্যে অনেক বৈঠক হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র জোরালো প্রতিরক্ষা সম্পর্কের জন্য জিসোমিয়া ছাড়াও ‘অ্যাকিউজিশন অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট (আকসা)’ নামে আরেকটি চুক্তির কথা বলছে। এটি প্রতিরক্ষা খাতে কেনাকাটা ও তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা (ওই প্রস্তাবগুলো) বাদ দিইনি বা গ্রহণ করিনি। আমরা এখনো পরীক্ষা করছি। ’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং শান্তিপ্রিয় দেশ। সব প্রতিবেশীর সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। আমরা কারো অস্ত্রের তৈরি করতে চাই না। অস্ত্র সংগ্রহ করলে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব আসে। ’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তিনি যা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

মোমেন বলেন, অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ব্যবসা। অস্ত্র কেনাকাটার বাইরে দুই দেশ প্রযুক্তি হস্তান্তর, ওষুধ, নীল অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাবে বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উত্থাপন করবেন এবং খুনিকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাবেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সফরে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো প্যাসিফিক কৌশল একটি দর্শন মাত্র। এতে যোগ দেওয়ার কিছু নেই। আবার এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো দ্বিমতও নেই। ’