ভারতের সংবিধানে হিজাবকে ‘অবৈধ’ বলা হয়নি, দাবি আইনজীবীর

১৭

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে চলমান হিজাব বিতর্ক নিয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত বলেন, ভারতের সংবিধানে এমন কোনো আইন নেই, যা দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব বা ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে আপত্তি জানাতে পারে। খবর এনডিটিভির।

দেবদত্ত কামাত বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে কোথাও হিজাব বা ধর্মীয় পোশাককে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়নি। সুতরাং, হিজাবের বিপক্ষে সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তা সংবিধানসম্মত কিনা- তা প্রশ্নসাপেক্ষ; আর একটি বিষয় হলো- মুসলিম ছাত্রীরা কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়ার জন্য হিজাব পরেন না। তারা এটি ব্যবহার করেন তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখে।’

কর্ণাটকে চলমান হিজাব আন্দোলন বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি। গত মাসে কর্ণাটকের উদুপি জেলার একটি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের ছয় ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে এ সমস্যার সূত্রপাত ঘটে।

শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে ক্লাস করা যাবে কিনা- তা নিয়ে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলে, এর মধ্যেই উদুপির ওই কলেজের ছয় শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে রাজ্যজুড়ে দানা বাঁধতে থাকে বিক্ষোভ।

অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের অন্যান্য কিছু কলেজে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া শাল পরে ক্লাসে আসতে শুরু করে। উভয় পোশাকই ক্যাম্পাসে পরা যাবে না, এমন নির্দেশনা জারি করতে বাধ্য হন কলেজ কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরা একদল ছাত্রীকে কলেজে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। উদুপি জেলার কুন্দাপুরের একটি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এ ঘটনায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। উদুপি সরকারি কলেজের পাঁচজন নারী কর্ণাটক হাইকোর্টে শ্রেণিকক্ষে হিজাব নিষিদ্ধের বিপক্ষে পিটিশন দায়ের করেন।