নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের জানাজায় গিয়ে ছুরিকাঘাতে নৌকার সমর্থক নিহত

৫৩

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের নামাজে জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নৌকার প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

শনিবার বিকালে ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হারান বিশ্বাস (৬৫) নামের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ৩০ জন। সেদিন উপজেলার সারুটিয়াা ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারান বিশ্বাস ওই ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী গ্রামের বিলাত আলীর ছেলে।

জানা যায়, পঞ্চম ধাপের সারুটিয়া ইউনিয়নে আওয়াামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কাইছার টিপুর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় নির্বাচনী অফিস, মোটরসাইকেল ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকালে কাতলাগাড়ী বাজারে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলফিকার কাইছার টিপুর দুই সমর্থকের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দুইপক্ষকে বসিয়ে সমঝোতা করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হারান বিশ্বাস নামের নৌকা সমর্থকের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আজ বিকালে নৌকার সমর্থক জসিম উদ্দিনসহ দুইজন ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা তাদের দুইজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে জসিম উদ্দিন মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ইউনিয়নের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, পঞ্চম ধাপে শৈলকূপায় ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে ইভিএম ও বাকি ৯টি ইউনিয়নে ব্যালটের মাধ্যমে আগামী ৫ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ জন আর নারী ১ লাখ ১৫হাজার ৭৭১ জনসহ মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৮জন ভোটার রয়েছেন।