আমার রাজনৈতিক ভাবনা

২৩

সারওয়ার চৌধুরী ঃ 

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা হল সিনিয়র নেতাদের বিভিন্ন পদ পদবি নিয়ে জোঁকের মত রাজনীতিতে লেগে থাকা । রাজনীতিতেও ” অবসর ” থাকতে পারে সেটা তারা কখনও মানতে রাজি নন ।

রাজনীতিটা তাদের কাছে পৈতৃক সম্পত্তির মত , পলিটিক্যাল প্রফেসনালিজম তাদের মধ্যে অনুপস্হিত । বয়সের ভারে শরীরে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের উৎপত্তি হয় , এটা যেন তারা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেননা বা করতে চাননা । আমৃত্যু রাজনীতিতে লেগে থাকার ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে যেমন বাঁধা আসে তেমনি দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডেও এর বিরূপ প্রভাব অবর্ণনীয় ।

জীবনের স্বাভাবিকতা সবাইকে অবশ্যই মানতে হবে , মানুষ যতই প্রভাবশালী , বিচক্ষণই হোক না কেন , একটা পর্যায়ে সময়ের স্রোতের কাছে তাকে হার মানতেই হয় । তাই উচিত হবে পদ – পদবি , কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আঁকড়ে না রেখে নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত করা । রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা লব্ধ এই নেতারা তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে নতুনদেরকে দিক নির্দেশনা দিতে পারেন , সে জন্যে পদ -পদবি কিংবা দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে থাকা অবান্তর । তাদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ দিক নির্দেশনা মোতাবেক নতুনরাও তাদের তারুণ্যের স্পৃহা নিয়ে নব উদ্যমে যে কোন দায়িত্ব শক্তভাবে সুসম্পন্ন করতে সমর্থ হবে , আর এটাই হল তারুণ্যের ধর্ম।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে আবার নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে যে নিজের সাথে সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে রাজনীতিতে এনে তাদের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক সিলসিলা অব্যাহত রাখা , সেখানে ব্যক্তির পারিবারিক পরিচয়টাই মুখ্য —- রাজনৈতিক দক্ষতা , অভিজ্ঞতা এ বিষয়গুলি একেবারেই গৌণ ।

এ সমস্ত অলিখিত সিলসিলা গুলির পরিবর্তন না হলে শিক্ষিত , শান্তি প্রিয় , প্রগতিশীল লোকেরা রাজনীতিতে আগ্রহ দেখাবেনা , আর আমাদের মত বহুবিদ সমস্যাগ্রস্হ একটা দেশের জন্যে এ ধরনের মানুষদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসা এখন অতীব জরুরী —- এ পরিবেশটা সৃষ্টি করার দায়িত্ব কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদদের উপরেই বর্তায় । তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুস্থ স্বচ্ছ এবং গণতান্ত্রিক পন্হা অবলম্বন করতে হবে , সর্ব নিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে ।

তরুণ প্রজন্মকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার না করে উপযুক্ত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে উৎসাহিত করতে হবে , সর্বোপরি ব্যক্তি কিংবা দল নয় , সর্বাবস্হায় দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে । সেই ধারাবাহিকতার জন্যে আর সময় ক্ষেপণ নয় বরং বর্তমান রাজনীতিবিদদের মাধ্যমেই শুরু হোক ।

নিজের আপনজন , প্রিয়জন কেউ যদি রাজনীতি করতে চায় , করুক সেটা রাজনীতির নিয়ম থেকে , গণতান্ত্রিক ভাবে । যদি তার মধ্যে যোগ্যতা থাকে , কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারবেনা , নিজের যোগ্যতা বলেই সে উঠে আসবে উপরে , সেই সঙ্গে সময়ের পরিক্রমায় অভিজ্ঞতার ঝুলিও হবে সমৃদ্ধ , দেশও পাবে যোগ্যতায় , অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রাজনীতিবিদ ।

অন্যদিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কেউ যদি পরিবার কিংবা চাটুকারীর মাধ্যমে নেতৃত্ব পায় , ক্ষমতার অধিকারী হয় , সেটা সমাজ ও দেশের জন্যে কল্যাণকর তো হবেই না বরং বিপদজনক এবং আত্মঘাতী ।