ক্রীড়া ডেস্কঃ সমান তালে শামীমার কিপিং ঘর হতে ক্রিকেট মাঠে

৫০
সমান তালে শামীমার কিপিং ঘর হতে ক্রিকেট মাঠে

নুরুল ইমরানঃ কৃষক সোলায়মান শেখ ও নূরজাহান বেগমের তৃতীয় কন্যা মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শামীমাকে ঘিরে তার বাড়ির মানুষের যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনি আগ্রহের শেষ নেই গ্রামবাসীরও। যে শামীমাকে দেখা যেত ধানক্ষেতে অথবা স্কুল মাঠে খেলতে, তাকে টিভির পর্দায় এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে দেখে দেশবাসীর থেকে আনন্দে একটু এগিয়েই আছেন  গ্রামবাসী।

অপরাজেয় ভারত নারী দলকে নাটকীয় ফাইনালে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয় করে ফেরা শামীমার ছোট্ট বাড়িতে যেন আনন্দের হাট বসেছে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শামীমাকে একনজর দেখতে। অথচ মাঠ থেকে ধান কেটে তা মাথায় করে বাড়ি আনা মাগুরার সংগ্রামী মেয়ে শামীমা।

শামীমার বাবা সোলায়মান শেখ বলেন, ‘সারা জীবন অন্যের জমি চাষ করে খুব কষ্ট করে পাঁচ ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছি। তবে এর মধ্যে শামীমা ব্যতিক্রম। ছোটবেলা থেকে ও বাড়ির সব কাজ থেকে শুরু করে মাঠে ধান কাটা পর্যন্ত নিজের হাতে করে। এমনকি ধান মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এর মাঝেও সে পড়া ও খেলা দুটোই চালিয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে শিক্ষা লোন নিয়ে সে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স করেছে।’

‘ছোটবেলা থেকে ওর যেমন পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ খেলাধুলার প্রতিও ছিল সমান আগ্রহ। আমরা ওকে ঠিকমত দেখতে পারিনি অভাবের কারণে তারপরও ও নিজের স্থান নিজেই করে নিয়েছে।’ আবেগময় অনুভূতি ব্যক্ত করেন মা নূরজাহান বেগম।

‘আপু আমাদের খুব ভালোবাসেন। আমাদের সঙ্গেই ক্রিকেট খেলেন। ঈদের পরদিন আপুর ব্যবস্থাপনায় একটা ম্যাচ হয় যেখানে আমরা সবাই খেলি। এদিনটিই আমাদের ঈদের আনন্দ শতগুণ বাড়িয়ে দেয়। এবারও খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ওই দিনের জন্য’ বলেন প্রতিবেশী কিশোর মেহরাব।

আজ শামীমা গ্রামে ফিরবেন বলে সাঁজ সাঁজ রব পড়ে গেছে বাংলাদেশের অনেক কৃতি ক্রিকেটারের জেলা মাগুরাতে।

প্রিয়আলো-ক্রীড়া ডেস্ক