নীতি চলে গেল, রীতি জানেনা নীতির নিয়তি!

৩০

চলে গেল নীতি (বাঁয়ের ছবি), বোন রীতির সঙ্গে এক ফ্রেমে নীতি (ডানের ছবি)

প্রিয়ডেস্কঃ  ওয়াসনা চৌধুরী নীতি নামের বছর সাড়ে নয় এর ছোট্ট মেয়েটার মুখমণ্ডলজুড়ে অক্সিজেন মাস্ক। হাতে বিদ্ধ স্যালাইনের সুঁচ। শরীরে চলছে তখন স্টেমসেল থেরাপি। সেদিন ২৬ সেপ্টেম্বরের সকাল। কলকাতার মুকুন্দপুরের আমরি হাসপাতালে ঘড়ির কাঁটা সকাল ৮টার আশেপাশে তখনও। এর মধ্যেই মেয়েটা পাশে বসা নানীকে নরম গলায় বলে ‘আমাকে চা-বিস্কুট দাও’। নানীর দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। নানু তাকে চা-বিস্কুট দিতে পারেন না। চিকিৎসকের যে নিষেধ আছে, রোগীকে কোনো খাবার দেওয়া যাবে না। এবার নীতি তার নানীকে কাছে টেনে দু’চোখ মুছে দিয়ে বলে-‘নানী কেঁদো না। আল্লাহ কে বলো।’

নানীর চোখ মুছতে মুছতেই মেয়েটা বন্ধ করে দিল নিজের চোখ। আর খুললই না। নীতি চলে গেল, সে আর কোথাও নেই। ঘর-দোর রাঙিয়ে রাখা মেয়েটা আর কখনই ফিরবে না। শুধু কি নীতি? নীতি যখন চলে যাচ্ছিল ওপারে, তখন তার পাশের কক্ষেই চিকিৎসাধীন আছে যমজ বোন সুমেহরা চৌধুরী রীতি। সেও একই রোগে ভুগছে।

রীতিকে কলকাতার হাসপাতালে রেখেই নীতির মরদেহ ভারত থেকে দেশে আনা হলো। সে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। নানী সানিডন প্রিপারেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ সৈয়দা নাসরিন আক্তারকে রীতির পাশে হাসপাতালে রেখে তার মা শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী শারমিনা চৌধুরী এবং বাবা ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, নানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বর্তমানে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. আবুল কাশেম, খালা ক্লোজআপ ওয়ান তারকা তাসমিনা চৌধুরী অরিন সহ দেশে ফিরে আসেন।

চট্টগ্রাম নগরীর হযরত মিছকীন শাহ (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে নীতিকে শেষবারের মতো ঘুম পাড়িয়ে আবার কলকাতা ফিরতে হচ্ছে তাদের। রীতিকে শোনানো হয়নি তার যমজ বোন নীতি আর নেই। বারবার রীতি প্রশ্ন করে যাচ্ছে, নীতি ভালো আছে তো, তার রক্তের প্লাটিলেট বাড়ছে? আরও হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত হচ্ছে সে। কারণ রীতি আর নীতির শরীর আলাদা হলেও আত্মা যে অভিন্ন!

তথ্যসুত্রঃ বাংলানিউজ২৪