তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

১০৬

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত, মোস্তফা কামাল ত্বহা: জনাব হাসানুল হক ইনু নবম জাতীয় সংসদের কুষ্টিয়া-২ সংসদীয় আসন (মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৪৬ সনের ১২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম এইচ, এম, কামরুল হক এবং মাতা মরহুম বেগম হাসনাহেনা হক। তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে। তিনি ১৯৭০ সালে বুয়েট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৭০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ সার্জেন্ট জহুর স্মরণে গঠিত ছাত্রলীগের ‘সার্জেন্ট জহুর বাহিনী’র সামরিক কায়দায় মার্চ পাস্টে তিনি নেতৃত্ব দেন; একই বছর ৭ জুন তিনি ছাত্রলীগের ‘জয়বাংলা বাহিনী’র সামরিক কায়দায় মার্চ পাস্টে নেতৃত্ব দেন।

তিনি ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টনে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তিনি ভারতের ‘তান্দুয়া’তে স্থাপিত বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট -বি এল এফ (মুজিব বাহিনী) এর গেরিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যাম্প প্রধান ও প্রশিক্ষক এর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। ১৯৭২ সালের মে মাসে জাতীয় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে বঙ্গবন্ধু জনাব ইনুকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপর তিনি ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর দেশের প্রথম বিরোধীদল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানে গণবাহিনীর উপপ্রধান ও কর্ণেল তাহেরের সহকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৩ সালে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা তথা ১৫ দলীয় জোট গঠন, ১৫ দল ও ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটি গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীকালে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আপোষহীন ধারায় পরিচালিত করতে ৫ দল গঠন এবং ৫ দল, ৭ দল, ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন পরিচালনা এবং ৯০ এর গণঅভ্যূত্থান সংগঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮৬ সালে জাসদের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ এ বামফ্রন্ট গঠনে ভূমিকা পালন, বামফ্রন্টের প্রথম আহ্বায়ক, ৩১ অক্টোবর ২০০২ এ জাসদের সভাপতি, ৩১ মে ২০০৫ এ দ্বিতীয়বার জাসদের সভাপতি, ৮ জানুয়ারি ২০১০ এ তৃতীয়বারের জন্য জাসদের সভাপতি ও ১২ মার্চ ২০১৬ সালে কাউন্সিলারদের বিপুল উৎসাহ ও উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে আবারও জাসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।


তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কৃষি-খাদ্য ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিষয়ক সর্বদলীয় গ্রুপের সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। খেলাধুলা এবং লেখালেখিতে তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। তাঁর লেখা কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহের মধ্যে রয়েছে “তিনদাগে ঘেরা বাংলাদেশ,” “বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি,” “গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নয়া কৌশল ” এবং দুই শতাধিক রাজনৈতিক প্রবন্ধ। জনাব হাসানুল হক ইনু ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, বাহরাইন, ওমান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, নাইজেরিয়া, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, সাবেক চেকোস্লাভাকিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, হল্যান্ড, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জনাব ইনু বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী আফরোজা হক রীনা জাসদের সহযোগী নারী সংগঠন জাতীয় নারী জোটের সভাপতি। জনাব হাসানুল হক ইনু প্রকৌশলী শমিত আশফাকুল হক এবং আফরোজা হক রীনার একমাত্র সন্তান। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ খৃষ্টাব্দে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ খৃষ্টাব্দে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে পুনঃবণ্টনকৃত মন্ত্রিপরিষদে তিনি তথ্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। জনাব হাসানুল হক ইনু ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে পুনরায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।