বিকৃত সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ভুমি এখন বাচ্চাদের স্কুল ঘর!

৩৩

 

38

ছবিঃ নমুনা ছবি।

মোস্তফা কামাল ত্বহাঃ আহা! শিশুদের স্কুলে বিদায় অনুষ্ঠানের নগ্ন সংস্কৃতির কী বাহার!!
যেখানে থাকি তার শতগজেরও অর্ধেক দূরত্বেই স্কুল ঘর। নার্সারি থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান হয় নিয়মিত। জনাব মোঃ আব্দুল জলিল ( ছদ্মনাম ) সাহেব হলেন হেড মাস্টার। উনি একাধারে ৩ টি স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন। এখন বাণিজ্য ভালো যাচ্ছেনা তবুও ২ টা স্কুলেই বাজিমাত ওনার চেক বইয়ের পাতা। এই পাতাই পাল্টেছে ওনার জীবন গল্পের খাতা। তবে সন্ধ্যার পরেও ওনার স্কুলে জাতীয় পতাকা ওড়ানোই থাকতো। হয়তোবা বছরে ধোঁয়ার জন্য দুইবার নামানো হতো!


আজ আঃ জলিল সাহেব মহা খুশী!
তাঁর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে করছে মহা আয়োজন। বিদায় অনুষ্ঠানের ধূম পড়েছে সর্বত্রই। বাদ যায়নি আঃ জলিল সাহেবের স্কুলও। এ যেন অন্যরকম বিদায়! বিশালাকৃতির বাদ্যযন্ত্র এবং তাঁর প্রলয়া শব্দের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি প্রসারিত হচ্ছে চতুর্দিক । সম্ভবত প্রতিভাবান ছাত্র-..দের সমন্ব্য়ে ড্যান্স গ্রুপও আছে সেখানে। আর না হয় সকাল ৭ টা থেকে এখনো পর্যন্ত শুধু অডিও প্লেয়ার আর বক্স দিয়ে আনন্দ উদযাপন কি সম্ভব?
এ আনন্দ কি যেনতেন আনন্দ! এ যেন বিদায়ের এক একবিংশ শতাব্দীর নতুন বিবর্তন!!
যে বিদায়ে গান-বাজনা-ড্যান্স-তামাশা-ই মুখ্য।


হায় চার্লস ডারউইন!!!


আমরাও বর্ষ সমাপনী/বিদায় অনুষ্ঠান করেছি। সেখানে স্যারেরা বলতেন; ” মাটির কিংবা হাতের তৈরি যে কোন কারুকাজ নির্দিষ্ট দিনে নিয়ে আসতে ” । সেদিন আমাদের নানান রকম খেলা-ধুলার ব্যবস্থা করা হতো। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতাম একাধিক ইভেন্টে! দেশী গান-কবিতা-কৌতুক-গল্প বলা-এককাভিনয় এবং দলীয় অভিনয় ছিল সবার পছন্দের তালিকায়।


এই আঃ জলিল সাহেব বিগত কয়েক বছর ধরেই এমন চর্চা করছেন!
কেমন চর্চা?
যেমনঃ হিন্দী গান এবং শুনতে অশুভ শব্দের শাব্দিক মিশ্রনের গীত…


লিখিতব্য কিছু লাইন নিচে দিলাম-
*** নাগিন নাগিন…
*** দিলবার দিলবার…
*** শিলা…
*** পানি ওয়ালা ড্যান্স……
*** বেবী ডল
*** ওহ লা লা
*** গুলি মারে…
*** প্রেম কি বুঝিনি আগে তো শিখিনি…!
*** ঐ তোর মায়াবি চোখ
*** আও রাজা…সহ অগনিত বাংলা-হিন্দীগান।
***হিন্দী তো তাই শিরোনাম দিলাম আর বাংলা গান গুলোর শিরোনাম বাদ ই দিলাম।
ছোট বেলায় যে গান গুলো শুনতাম সে গান গুলোই মিশে আছে প্রানের সুরে। সে হিসেবে আজ ছোট ছোট বাচ্চারা তাঁদের স্কুলে যে ভীনদেশী গানের চর্চা করছে সেই সাথে উন্মত্ততা প্রকাশের মাধ্যমে নগ্ন সংস্কৃতির ছায়াতলে নিজেদের সঁপে দিচ্ছে তা কি দেখার কেউ নেই??


শুধু এই স্কুল বলেই কথা নয়। সরকারের উচিত এ সব স্কুলের হেড মাস্টারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মানসিক দক্ষতা যাচাই করে স্কুলের অনুমোদন দেয়া। আর না হয় শত স্টার প্লাস বহুদূর ভবিষ্যতে বন্ধ হলেও হাজারটা জি-বাংলার জন্ম দিবে এই প্রজন্মের এই স্কুলের মাস্টারদার শিষ্যরা!!!

তাই বলাই যায়, বিকৃত সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ভুমি এখন বাচ্চাদের স্কুল ঘর!