সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীর হাত কেটে দিয়েছে স্বামী

১৯

আন্তর্জাতিক 204ডেস্ক : সাত বছরের সংসার জীবনে সন্তান জন্ম না দিতে পারার অভিযোগে স্ত্রীর দুই হাতই কেটে দিয়েছে তার স্বামী। স্ত্রীর মাথায় আঘাত করায় তার এক কান বধির হয়ে গেছে।

 

জ্যাকলাইন এমওয়েন্ডের স্বামী স্টিফেন এনজিলা বাড়িতে কুঁড়াল দিয়ে কুপিয়ে তার হাত কেটে ফেলে। ঘটনাটি ২৩ জুলাইয়ের, যা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ঘটে। এ নিয়ে দি নেশন পত্রিকা একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা বিশ্বের অনেকের দৃষ্টি কাড়ে।

 

এমওয়েন্ডের বাবা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এনজিলা হুমকি দিয়েছে, ‘মুখ বন্ধ রেখো, এতেই ভালো।’

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনার দিন রাতে এনজিলাকে খুঁজতে শুরু করে। ঘটনার একদিন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এমওয়েন্ডের কাছে হাজির হয় এনজিলা। সেখান থেকে ‍পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

এদিকে এনজিলাকে সন্তান জন্মদানে অপারগতার অভিযোগে তার স্বামী হামলা করলেও নাইরোবির একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, সমস্যা এমওয়েন্ডের নয়, তার স্বামী এনজিলার অক্ষমতার কারণে তাদের সন্তান হচ্ছে না।

 

কেনিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য জোসি ওয়ানজালা লে সিএনএনকে বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক, এই সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে!’

 

তিনি আরো বলেন, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি স্বামী-স্ত্রী দুজনের ওপরই নির্ভরশীল। একজন নারী সন্তান ছাড়ও একজন নারী এবং বেশি সামর্থ রাখে।’

 

রাজধানী নাইরোবি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে তার মায়ের বাড়িতে আছেন এমওয়েন্ড। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন নারী অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ তাকে দেখতে যাচ্ছেন।

 

কেনিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এমওয়েন্ডের কমপক্ষে তিন মাসের চিকিৎসা ব্যয়ের ভার নিয়েছে। এ ছাড়া ওয়ানজালা লে এবং অন্য অধিকারকর্মীরা প্রোসথেটিক হাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া, মাসে ২৫০ ডলার ভাতা দেওয়া, থেরাপি দেওয়ার জন্য পরিবহন ব্যয় বহন করা এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে দক্ষ করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

এমওয়েন্ডের ওপর এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেনিয়ার রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ, অধিকারকর্মী এবং নাগরিকরা।

 

ইরুনগু হগটন নামে এক অধিকারকর্মী বলেছেন, ‘আমি জানি, এ ধরনের যৌন সহিংসতার দিকের চেয়ে আমরা অনেক ভালো। আমি মর্মাহত। যে সমাজ একজনকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে সমাজ কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’

 

এমওয়েন্ডের পাষণ্ড স্বামীকে ৫ আগস্ট আদালতে তোলা হবে।