পাঁচ পয়সা নিয়ে মামলা চলছে ৪০ বছর

৪২
13

রণবীর সিং যাদব

প্রিয়আলো, অন্যান্য: পাঁচ পয়সা হয়তো এখন আপনার কাছে তেমন কোনো মূল্যবান কিছু নয়। কিন্তু এই পাঁচ পয়সার জন্যই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মামলা লড়ছেন রণবীর সিং যাদব নামের এক ভারতীয়।

 

৭৩ বছরের যাদব শুধু যে লড়াই চালিয়ে আসছেন তা নয়, এ জন্য অনেক অর্থ খরচও করছেন তিনি।

 

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭৩ সালে, তখন দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন যাদব। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বাসে এক মহিলার কাছ থেকে ১৫ পয়সা নিয়ে তাকে ১০ পয়সার টিকেট দিয়েছিলেন এবং বাকি ৫ পয়সা নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন। পরবর্তীতে এটি নিয়ে অনুসন্ধান হয় এবং ১৯৭৬ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

 

এ বিষয়ে মামলা হলে ১৯৯০ সালে লেবার কোর্ট থেকে নিজের পক্ষেই রায় পান রণবীর সিং যাদব। রায়ে বলা হয়, তাকে চাকরিচ্যুত করা ছিল বেআইনি। কিন্তু ওই বছরই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রান্সপোর্ট কতৃপক্ষ। তারপর থেকে এ মামলার পেছনে খরচ হয়েছে ৪৭ হাজার রুপি।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘আমার সন্তানরাও জিজ্ঞাসা করেছিল আমি প্রতারণা করেছি কিনা। অনেক দুঃখের সঙ্গে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতাম যে, আমি প্রতারণা করিনি। তারপর আমি তীর্থযাত্রাতে না গিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই।’

 

তবে শেষ পর্যন্ত আদালত এ মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসেছেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন, যাদবকে ৩০ হাজার রুপি দিতে। পাশাপাশি ১ দশমিক ২৮ লাখ রুপি অবসর ভাতা এবং আরো ১ দশমিক ৩৭ লাখ রুপি প্রভিডেন্ড ফান্ডের ভাতা হিসেবে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

 

এ ছাড়া মামলা চলাকালে আদালত দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের কাছে জানতে চান দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পাঁচ পয়সার মামলার জন্য তারা কত অর্থ খরচ করেছে।

 

বিচারক বলেন, ‘এটি এমন এক মামলা, যেখানে বাদী দীর্ঘ ৪০ বছর দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের সঙ্গে লড়াই করছেন। লেবার কোর্ট এবং হাই কোর্টে মামলা জেতা সত্বেও তিনি এর ফল ভোগ করতে পারছেন না।’

 

এ সম্পর্কে যাদবের স্ত্রী ভিমলা বলেন, ‘মামলাটি ৫ পয়সা হোক কিংবা ২ পয়সা কিন্তু এর জন্য আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার মূল্য লাখ রুপি।’

 

তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী ২৬ মে এ বিষয়ে কর্কাদোমা আদালতে আরো একটি শুনানি রয়েছে।