রুপকথাকে হার মানিয়ে লিস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন !

৩৫
download

লিস্টার সিটির খেলোয়াড়দের জয়োল্লাস

মোহাম্মদ নুরুল করিমঃ  রুপকথাকে হার মানিয়ে লিস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন ! ক্লাব ফুটবলে ইতিহাসের সকল হিসাব নিকাশ সমিকরণকে মিথ্যা প্রমাণিত করে শেষ পর্যন্ত ইপিএল মুকুট জিতে নিল লিস্টার সিটি ।

 

লীগের 36 তম রাউন্ডে এসে সমিকরণ দাড়িয়েছিলো , লিস্টার ইউনাইটেড এর সাথে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন আর যদি ড্র করে তবে পরে দিন চেলসি আর টটেনহাম ম্যাচ যদি ড্র হয় তাহলেও চ্যাম্পিয়ন হবে লিস্টার সিটি । গত রাতে চেলসি টটেনহাম ম্যাচ 2-2 গোলে ড্র হলে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে “দ্যা ফক্স” খ্যাত লিস্টার সিটি ।

 

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লীগ ধরা হয় ইপিএল কে । ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, লিভারপুল, চেলসির মতো শক্তিশালী ক্লাব খেলে এই লীগে ! শক্তি , অর্থ আর জনপ্রিয়তায় এই সব ক্লাব গুলো থেকে যোজন যোজন দূরে পিছিয়ে লিস্টার সিটি । অথচ সেই দল গুলোকে পিছিয়ে ফেলে শিরোপা জিতে নিল লিস্টার । তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইপিএল এর শিরোপা নির্ধারণ হয় সাধারণত লীগের শেষ ম্যাচে এসে , আর এই বছর দুই ম্যাচ আগেই নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ইপিএল ।

যখন লীগ শুরু হয় তখন পৃথিবীর সবচেয়ে আশাবাদী লোকটাও হয়তো স্বপ্নে ভাবেনি লিস্টার চ্যাম্পিয়ন হবে , কারণ দলটি লীগ শুরু করে পয়েন্ট তালিকার 20 নম্বরে থেকে । লীগে টিকে থাকাই যেখানে চ্যালেঞ্জ ছিল , সেখান থেকে লীগ জয় ! ইপিএল এর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ময়কর ঘটনা এটাকে বলতেই হবে ! লীগ শুরু হবার আগে ক্লাবটির দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রীস জাতীয় দল থেকে বিতাড়িত , চেলসির সাবেক কোচ , ইতালীয় নাগরিক ক্লাদিও রেনিয়িনিকে । আর এই বুড়ো কোচের পরশ পাথরে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে “ফক্সরা” । কোচের পরিকল্পনা আর মাঠে তার একঝাক পরিশ্রমী খেলোয়াড়দের সেই পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়নে এক অপ্রতিরোধ্য দলে পরিণত হয় ক্লাবটি ।

36 ম্যাচে জয় পায় 22 টি ম্যাচে ড্র হয় 11 টি ম্যাচ এবং পরাজিত হয় মাত্র 3 টি ম্যাচ । ভাগ্য বিজয়ীর পাশেই থাকে , মোট 11 টি ম্যাচ জিতে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে ! 1884 সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটির ইতিহাসে কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি , বিশ্ব মহা মন্দার যুগে অর্থাৎ 1928/29 সালে একবার রানার্স আপ হয়েছিলো । প্রায় এক দশক পর লীগের টিকেট পায় গত বছর আর এবছর জিতে শিরোপা ! দলটির সেরা অস্ত্র ছিলো জমি ভার্ডি ও রিয়াদ মহারেজ । কয়েক বছর আগে শ্রমিকের কাজ করা ভার্ডি আজ ইতিহাসের এক মাহানায়কের না ।

 

আলজেরিয়া নাগরিক রিয়াদ মহারেজ খেলতো ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিভাগের একটি দলে । আজ এই জুটি জয় করে নিল পৃথিবীর কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ! ( দুই জনের গোল সংখ্যা দিবেন ) লিস্টার এর মিডফিল্ডার কান্তেকে পর্দার পার্শ্ব নায়ক বলা যায় , মধ্য মাঠ দাপিয়ে খেলা এই কান্তেই ছিল লিস্টার এর “জাবি ইনিয়েস্তা ” । ভার্ডি মহারেজ দের বলের যোগান আসতো তার পা থেকেই ।

অধিনায়ক মর্গান , ড্রিঙ্কওয়াটার , ওজাকার্নি, উজ্জোয়া , ফুকস , সিম্পন হুথরা এক একজন আজ যোদ্ধার নাম , ফুটবল বিজয়ী যোদ্ধা । এইসব অখ্যাত যোদ্ধারাই আজ এক একটি অনুপ্রেরণার নাম । ক্লাবটি জার্সির গায়ে লেখা আছে “কিং” । আজ তারা সত্যিকারের “কিং” । ফুটবলে পেট্রো ডলারের যুগে , অর্থই যে সফলতার মূলমন্ত্র নয় , তার বাস্তব উদাহরণ হলো লিস্টার সিটি ।