হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার

৪৭

নিজস্ব প্রতিবে.2দক, রাজশাহী : রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার নাইস ইন্টারন্যাশনাল নামের আবাসিক হোটেল থেকে তরুণ-তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করছে। পুলিশের ধারণা, তাদের খুন করা হয়েছে।

নিহতের মধ্যে একজন হলেন পাবনা সদর থানার রাধানগর এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে সুমাইয়া নাসরিন (২১)। অপরজন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (২৩)। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তিন তারকাবিশিষ্ট ওই হোটেলটিতে ওঠেন। তারা হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষটিতে অবস্থান করছিলেন।

হোটেলের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হোটেলবয় ফয়সাল ৩০৩ নম্বর কক্ষটিতে খবরের কাগজ দিতে যান। এ সময় কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। ফয়সাল তাদের অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।

পরে ওই কক্ষের ইন্টারকমে বার বার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। তখন বিষয়টি বোয়ালিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেলেটির লাশ পাওয়া যায়। আর মেয়েটির লাশ ছিল বিছানার ওপরে।

হোটেল ব্যবস্থাপক বলেন, হোটেলে ওঠার সময় তারা যে পরিচয় দিয়েছেন তা খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই নাম-ঠিকানা সঠিক না-ও হতে পারে।

বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের হত্যা করা হয়েছে, নাকি তারা আত্মহত্যা করেছেন- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের একজন ব্যবস্থাপককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সুমাইয়ার মুখ-মন্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার মুখ বালিশ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ছিল। আর মিজানুরের লাশ মেয়েটির ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তার দুই হাতও বাঁধা ছিল। ঝুলন্ত অবস্থায় পরনের প্যান্ট খুলে পায়ের গোড়ালিতে আটকে ছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, তাদের দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর বাইরে থেকে স্বয়ংক্রিয় তালা আটকে দিয়ে হত্যাকারীরা চলে গেছে। তবে কি কারণে কারা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। হোটেলটির ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাটি আত্মহত্যা কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।