এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনালে ভারত

৪২
15

(কোহলির আরো একটি কাভার ড্রাইভ)

ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে : ভারত-শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ে ভারত জিতলে বাংলাদেশের লাভ! এশিয়া কাপে বাংলাদেশর ফাইনালে উঠার পথ সুগম হবে!

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এ তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই যেন ‘ভারত-ভারত’ শব্দে মাতাল গোটা গ্যালারি।

এশিয়ার দুই জায়ান্টের লড়াই দেখতে এদিন প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মিরপুর স্টেডিয়ামের অর্ধেকটা পূর্ণ। শ্রীলঙ্কার কয়েকশ দর্শক ছাড়া বাকি সবাই ভারতের সমর্থক। যতবার শ্রীলঙ্কার উইকেট ভেঙেছে ততবারেই তারা উৎসবে মেতে উঠেছে। কোহলির ব্যাটিংতো উপভোগ করেছে পুরোটা সময় জুড়েই।

তাদের কষ্ট সার্থক। আগে ব্যাটিং করা শ্রীলঙ্কার ১৩৯ রানের বেঁধে দেওয়া টার্গেট মহেন্দ্র সিং ধোনির দল জিতেছে ৪ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে। টানা তিন জয়ে ভারত এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে এশিয়া কাপ থেকে প্রায় ছিটকে গেছে এশিয়ার ও টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এ জয়ে ভারত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। তাদের পরই রয়েছে বাংলাদেশ। কাল বাংলাদেশের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাংলাদেশ জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত। যদি হেরে যায় তাহলে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ম্যাচে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।

মঙ্গলবার মিরপুরে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৩৮ রানে শেষ হয় লঙ্কানদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে কাপুগেদারার ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন মিলিন্দা সিরিয়ার্ধনে। শেষ দিকে থিসারা পেরেরা ৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় দ্রুত ১৭ রান যোগ করেন।

তবে এ স্কোর আরও বড় হতে পারত। অশ্বিনের বলে স্ট্যাম্পিং হন পেরেরা। টিভি আম্পায়ারের কাছে সাহায্য না চেয়ে অনফিল্ড আম্পায়ার পাকিস্তানের শোযাব রাজা সরাসরি আঙুল তুলে দেন। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেছে পারেরা স্ট্যাম্প ভাঙার আগেই ব্যাট নামিয়ে এনেছিলেন! ১৯তম ওভারে পারেরা ভুল সিদ্ধান্তে আউট না হলে স্কোরবোর্ড অন্তত দেড়শ রান ছুঁতে পারত!

বোলিংয়ে ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জাসপ্রিত বুমরাহ, হারদিক পান্ডে ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। একটি নেন আশিস নেহরা।

টার্গেট খুব বড় না হলেও শুরুতেই লড়াই করে লঙ্কানরা। ১৬ রানে ভারতের দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান নুয়ান কুলাসেকারা। সেখানেই শেষ লঙ্কানদের প্রতিরোধ। তৃতীয় উইকেটে কোহলি-রায়না যোগ করেন ৫৪ রান, চতুর্থ উইকেটে কোহলি-যুবরাজের আরও ৫১ রানে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

রায়না (২৫) ও যুবরাজ (৩৫) রানে আউট হলেও কোহলি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৩তম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ভারতের উইনিং শটটি খেলেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। ৫৬ রানের ইনিংসে কোনো ছয় না থাকলেও ছিল সাতটি বাউন্ডারির মার।

কোহলি শো’র দিন অঘোষিত নায়ক যুবরাজ সিংও। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি ফাইনালে ‘স্লো’ খেলার কারণে ক্যারিয়ার হুমকিতে ফেলে দিয়েছিলেন যুবরাজ। সেই যুবরাজ লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৩৫ রান। ম্যাচসেরা কোহলির সঙ্গে সাত রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক ধোনি।

ফাইনালের আগে ৩ মার্চ ভারতের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত।