সচেতনতাই পারে ঢাকাকে যানজটমুক্ত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজ ও মানবিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে

৪৫

আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয় হলে ঢাকার উন্নয়ন সম্ভব। সম্ভব এ নগরীকে পরিচ্ছন্ন সবুজ নিরাপদ সচল স্মার্ট, আলোকিত আর মানবিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তোলা।

ঢাকাকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন সবুজ নগরী গড়ে তোলতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন না হওয়া পর্যন্ত ঢাকাকে কোনভাবেই যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়া সম্ভব নয়।

আমরা যখন ঢাকায় ক্যান্টনমেন্টে গাড়ী অথবা সিএনজি নিয়ে প্রবেশ করি তখন কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের আইন মেনে চলি আর যখন ই ক্যান্টনমেন্টের থেকে বের হই তখন আর আইন মানি না। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট তো আর ঢাকার বাহিরে নয়। ক্যান্টনমেন্ট যারা প্রবেশ করে তারা তো আর বাহিরের কেউ নয়। অতএব আমাদের সচেতন ও আইন মানা জরুরী।

 

ঢাকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও যানজট। যদি বলি ঢাকার জলাবদ্ধতা আমাদের তৈরী এটা কি ভুল হবে? আমরা যদি ময়লা আর্বজনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি তাহলে কি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমরা ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলিনা। যেখানে সেখানে ফেলি যার প্রেক্ষিতে ময়লা আবর্জনাগুলো বৃষ্টির পানির সাথে সরাসরি ড্রেনে গিয়ে পড়ে। পানি ঠিকমত সরতে পারে না। যার প্রেক্ষিতে ড্রেন এর পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার দেখা যায়, বড় বড় ড্রেনগুলো থেকে ময়লা তুলে ড্রেনের পাশে জমা করে রাখা হয়। যার প্রেক্ষিতে ময়লাগুলো আবার ড্রেনে গিয়ে পড়ে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন 43টি খালের মধ্যে 26টি খালই নেই। এই খালগুলো কি ঢাকার বাহিরের কোন লোক দখল করেছে? যারা দখল করে রেখেছে তারা আপনার আমার ভাই।
আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা, সব কিছু বাদ দিয়ে যদি বাংলাদেশকে মধ্য-আয়েরভূক্ত দেশ হিসেবে উন্নীত করতে হয়ে তাহলে অবশ্যই এমন এক ব্যবস্থা নিতে হবে যে ব্যবস্থায় মিরপুরের পল্লবীতে বসবাসকারী মানুষ মাত্র 20 মিনিটের মধ্যে মতিঝিল পৌছাতে পারে। অব্যস্ত যানজটের সমস্যা অবশ্যই দূর করতে হবে। যানজট নিরসনে কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে আমার দৃষ্টিতে যানজট কিছুটা কমতে পারে।

১। ঢাকার 30 শতাংশ মানুষ ফুটপাতে হাঁটে। ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে হাটার উপযোগী করলে যানজটের উপর কিছুটা চাপ কমবে।
২। বাসগুলো কোথায় থামবে, তা নিয়ম করে দিতে হবে। বাস চলাচল সুসৃঙ্খল ও জনবান্ধব করতে হবে।
৩। অনেককেই দেখা যায় চলন্ত বাস থেকে দোড়াইয়া নামে ও দৌড়াইয়া উঠে। এটা বন্ধ করতে হবে। বাস চালক ও হেলপারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মনে রাখতে হবে বাসচালক ও হেলপারকে আমরাই খারাপ করছি। আমরা যদি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উঠানামা করি তাহলে তারাও ঠিক হবে।

কিছু বিষয় সবসময় থেকে যায়।

যেমন ধরা যাক বাসগুলোর কথা….. বাসগুলো ইচ্ছেমতন জায়গায়, ইচ্ছেমতনভাবে পার্কিং করে বসে থাকে। তাদের ইচ্ছে হলো তো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলো আবার ইচ্ছে হলো তো বাঁকা করে এমন ভাবে পার্ক করলো যে পেছনের কোনে গাড়ি সামনে যেতে পারছে না। যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো ও পার্কিং বন্ধ করতে হবে।

দৌড়াইয়ার উঠানামার কারণে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। আমরা যদি নির্দিষ্ট স্থানে নামি বা বাস থামানোর পর নামি তাহরে কি ভাল হয় না?
আমরা যে রাস্তা দিয়ে হাটিছি ঐ রাস্তাটি পরিস্কার এর ব্যাপারে কখনোকি সমন্বিতভাবে অভিযোগ করেছি। সম্মনিতভাবে অভিযোগ এবং পর্যবেক্ষন করলে অবশ্যই ঢাকাকে আধুনিক ঢাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এরপর আসা যাক, ফুট ও ওভারব্রীজ এর কথায়। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ফুট ও ওভারব্রীজ নির্মান করা হয়। কিন্তু এটা কেউ ব্যবহার করেনা। ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ হারে জরিমানা করেন এবং তা আদায়ের ব্যবস্থা করেন,দেখবেন কাঠির থেকেও সোঁজা হয়ে গেছে,কারন আইন অমান্য করা আমাদের জন্মগত সমস্য।
প্রায় সময় রাস্তায় ও বড় বড় শপিং মলের সামনে দেখা যায়, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা/এনজিও ডোনেশন তুলতে। এই সব ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দিয়ে কি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ফুট ওভার ব্রীজের সামনে দিয়ে পথচারীদেরকে সচেতন করা যায় না?

রাজধানীতে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে চলা দায় হয়ে পড়েছে। যে সড়ক দিয়েই যান না কেন ময়লার কনটেইনার (ডাস্টবিন) চোখে পড়বেই। আর সেসব কনটেইনারের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে মূল সড়কেও। রাত-দিন সব সময়ই এসব জায়গায় ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ দিন ধরে একই জায়গায় কনটেইনারগুলো থাকার কারণে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা পরিষ্কার করলেও দূষিত তরল পদার্থ থেকে যাচ্ছে ওই জায়গাতেই। এতে কনটেইনার রাখার স্থানগুলো হয়ে যাচ্ছে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন। নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোয় এ স্থানগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে পথ চলতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এ ক্ষেত্রে দুই মেয়র রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগরী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।আমরা সমস্যা ধামাচাপা দিচ্ছি, গোঁড়া থেকে সমস্যা সমাধানের কোন বিকল্প খুঁজছি না।
আমরা সবাই মিলে যদি একযোগে প্ল্যান করে সকল রাস্তা ঘাটের ধুলো একসাথে করে কোন নির্দিষ্ট স্থানে মাটিতে ডাম্প করতে পারতাম তাহলে ঢাকা হয়তো বিশ্বের চতুর্থ “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুর শহর” হতে পারবে না।

আমরা যদি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ বিষয়ক বিবিধ কাজ গুলোর ব্যাপারে সাধারণ মানুষদেরকে সচেতন করতে পারি তবে একদিন না একদিন সাধারণ মানুষের ভেতর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই পড়বে। ঢাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে অনেক জন কল্যাণ কর যাকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে শুরু করবে।
নিম্নলিখিত ক্যাটাগরি গুলোতে সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রতিবছর পুরস্কার দেওয়া হোক ।

১। সেরা পরিচ্ছন্ন বাড়ী
২। সেরা পরিচ্ছন্ন স্কুল
৩। সেরা পরিচ্ছন্ন মার্কেট
৪। সেরা বাগান
৫। সেরা পরিচ্ছন্ন মহল্লা/ওয়ার্ড এবং
৬। সেরা কাউন্সিলর

আবার দেখা যায়, উচ্ছেদ তো করা হয়তো ঠিকই, কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। উচ্ছেদ করার পর অথবা কোন পদক্ষেপ নিলে তা কার্যকর হচ্ছে কিনা মনিটরিং করা দরকার।

আমরা যে পর্যন্ত সচেতন না হব আমাদের বিবেক যে পর্যন্ত জাগ্রত না হবে দুই মেয়র এবং সরকার যে পদক্ষেপই নিক না কেন তা কার্যকর হবে না।

লিখেছেনঃ শাহিদুন আলম ফুটন