জেনে নিন পুলিশি তল্লাশির নিয়ম

২৯

কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিকে তল্লাশির ক্ষেত্রে পুলিশ নিয়ম মানছে না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাই তল্লাশি নিয়ে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ । বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী ও সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাসকে তল্লাশির নামে নির্যাতনের অভিযোগে এ সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এ বাহিনীকে।
তবে এখন কারও আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে তল্লাশি করা যাবে বলে প্রিয়আলোকে জানিয়েছেন আইনজীবী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু সেক্ষেত্রে তল্লাশির সময় কমপক্ষে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও মালামাল জব্দ করতে হলেও একই নিয়ম মানতে হবে পুলিশকে।


এছাড়া, তল্লাশির সময় পুলিশ দলের নেতৃত্বেও কমপক্ষে একজন সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকতে হবে। আর এ তল্লাশিতে কেউ বাধা দিলে, তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যেতে পারবে।
তল্লাশির নিয়মের বিষয়ে বেশ ক’জন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা সরাসরি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাক্ষাতে এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন বলে জানান। তবে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, তল্লাশির নিয়ম মেনেই তারা তল্লাশি চালান।


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার মতো কোনও উপকরণ কিংবা মাদক আছে বলে মনে করে, সেক্ষেত্রে সিআরপিসি’র ১০৩ ও ১৬৫ ধারা অনুযায়ী তল্লাশি চালানোর আইনি অধিকার পুলিশের রয়েছে। তবে, তল্লাশির সময় কমপক্ষে দু’জন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তল্লাশি চালাতে হবে।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনে পুলিশ যাকে তল্লাশি করতে চাইবে, সেক্ষেত্রে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সহযোগিতা করতে আইনত বাধ্য। অন্যথায় সরকারি কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ৩৫৩ ধারায় ওই ব্যক্তিকে আটকের অধিকার রাখে পুলিশ।


আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তল্লাশির ক্ষেত্রে পুলিশ নিয়ম না মানলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।